search
Tuesday, October 23, 2012
Monday, October 15, 2012
Sunday, April 22, 2012
কেন খুঁজে বার করি দুষ্প্রাপ্য বই - 1
দুষ্প্রাপ্য বই কেন খুঁজে বার করি, আমার অনেক বন্ধুরা এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছেন। ইন্টারনেট আসার অনেক আগে থেকেই একটা বই এর লেজ ধরে আরো একটা বই খুঁজে বের করাটা একটা নেশা ছিল আমার। আমরা যখন কোন বই প্রথমবার পড়ি, তখন একটা প্রত্যাশা নিয়ে বই টা পড়তে শুরু করি, যেটা সাধারনত সৃষ্টি হয় আমাদের বন্ধু-বান্ধব দের সেই বই বা লেখকের সমন্ধে তাদের নিজস্ব মতামত থেকে । যখন আমাদের সেই প্রত্যাশা ছাপিয়ে যান লেখক, তার লেখনশৈলী, চরিত্র-পরিস্ফুটন এবং ঘটনা বিন্যাস দিয়ে, তখন সেই গল্পের চরিত্রের সাথে আমরা একাত্ম হয়ে পরি, নিজেদের ছেড়ে দিই লেখকের হাতে, অমোঘ আকর্ষণে এগিয়ে যাই গল্পের পরিনতির দিকে। এখানেই কালজয়ী সাহিত্যিকদের লেখার অসামান্যতা। আর প্রথমবার পড়ার পর যখন বেশ কিছু বছর পরে একই বই আবার আমরা পড়তে যাই, তখন আমরা বইটা পড়ি সমালোচকের দৃষ্টি দিয়ে, “আগে তো পড়েছি, জানি তো কি হবে, তবু দেখি” – এই ধরনের মনোভাব নিয়ে, আর তখনই বই এর পাতায় পাতায় অনেক তথ্য নতুন ভাবে আবিষ্কার করি, প্রথম বারের সেই পড়ার সময় সেগুলো ছিল গুরুত্বহীন, কারণ গল্পের টান ছিল মুখ্য। এখন এই সব তথ্য মনে কৌতূহল জাগায় – সেই কৌতূহল জন্ম দেয় আরো খুঁজে বার করার তাগিদ।
একটা উদাহরন দিই - “তুঙ্গভদ্রার তীরে” – একটি অসাধারন ঐতিহাসিক উপন্যাস। প্রথমবার পড়ার সময় শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় সৃষ্ট অসাধারন পটভূমিকায় মুগ্ধ হয়ে শুধু পাতার পর পাতা পড়ে গেছিলাম। বয়সও ছিল অনেক কম। মনে আছে, বেশ কিছুদিন বিভোর হয়ে ছিলাম উপন্যাসের চরিত্রগুলোতে। অনেক দিন পর, লেখকের ঐতিহাসিক উপন্যাস সমগ্র কিনলাম বইমেলা থেকে আর অবধারিত ভাবে তুঙ্গভদ্রার তীরে পড়তে গিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন জাগল মনে – তার একটা হলো – বিজয়নগরের এই ইতিহাস কি সত্যি ? নবম শ্রেণী তে ইতিহাসে পড়েছিলাম যে পঞ্চদশ শতকে বিজয়নগর সাম্রাজ্য ভারতের এক গৌরবময় অধ্যায়, হরিহর, বুক্ক, কৃষ্ণদেবরায়, দ্বিতীয় দেবরায় – আর পাশ্ববর্তি বাহমনী সাম্রাজ্যের সাথে তাদের লড়াই। কিন্তু উপন্যাসের এই চরিত্র গুলি কি ছিল সেই সময় – লেখক কি ভাবে এত সুন্দর ছবির মত পটভূমিকা তৈরি করলেন।
একটু উলটে পালটে দেখতেই চোখে পড়ল স্বয়ং লেখকের ভূমিকা –
“এই কাহিনীর ঐতিহাসিক পটভুমিকা Robert Sewell-এর A Forgotten Empire এবং কয়েকটি সমসাময়িক পান্থলিপি হইতে সংগৃহীত। Sewell-এর গ্রন্থখানি ৬৫ বছরের পুরাতন। তাই ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার মহাশয়ের সম্পাদিত সাম্প্রতিক গ্রন্থ The Delhi Sultanate পাঠ করিয়া Sewell-এর তথ্যগুলি শোধন করিয়া লইয়াছি। আমার কাহিনীতে ঐতিহাসিক চরিত্র থাকিলেও কাহিনী মৌলিক; ঘটনাকাল খৃ ১৪৩০ এর আশেপাশে। তখনো বিজয়নগর রাজ্যের অবসান হইতে শতবর্ষ বাকি ছিল”।
অতএব Robert Sewell-এর A Forgotten Empire ও ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার মহাশয়ের সম্পাদিত The Delhi Sultanate এই দুটি বই খুঁজে বের করে পড়ার ইচ্ছা জাগল। আর সঙ্গে সঙ্গে লেখকের লেখা সমসাময়িক পান্থলিপি সেগুলোও খুঁজে বের করা যায় কিনা সেটাও।
Sewell-এর বইটা পেলাম University of Michigan এর ডিজিটাল আর্কাইভে। বইটি স্ক্যান করা হয়েছে জয়পুর রাজ্যের পিলানি বিড়লা সেন্ট্রাল লাইব্রেরী থেকে (ভাবতেও অবাক লাগে, কোথায় জয়পুর আর কোথায় মিশিগান!)। এক অসাধারন ইতিহাসের দলিল এই বই। Robert Sewell (1845-1925) ছিলেন ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষের একজন রাজকর্মচারী।মাদ্রাজ প্রভিন্সের এই রাজপ্রতিনিধি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন দুই পর্তুগীজ ব্যবসায়ী ও পর্যটক Fernāo Nuniz and Domingo Paes এর ভ্রমণ বিবরণ যার পান্ডুলিপি একটি ভেড়ার চামড়ার ফোল্ডারে করে কেউ গোয়া থেকে লিসবনে পাঠিয়েছিলেন, খুব সম্ভবত পাঠানো হয়েছিল বিখ্যাত ঐতিহাসিক ব্যারোজ কে। সেই পান্ডুলিপি রক্ষিত ছিল প্যারিসের Bibliotheque Nationale – তে “পোর্ট নং ৬৫” নামক আধারে, আর ১৯০০ সালে প্রথমবার জনসমক্ষে প্রকাশিত সেই পান্ডুলিপির অনুবাদ করেন Sewell ও তার সাথে অন্য পর্যটকদের দলিল নিয়ে ভারতের ইতিহাসের বিজয়নগরের এক অসামান্য চিত্র তুলে ধরেছিলেন বইটিতে।
পড়তে পড়তে এক জায়গায় গিয়ে চোখ আটকে গেল – পারস্য থেকে আসা পর্যটক আবদুল রাজ্জাক এর বিবরণীতে রাজা দেবরায় এর উপর তাঁর ভাই এর গুপ্তহত্যার চেষ্টা। শরদিন্দুবাবু ও একই ঘটনা বলেছেন তাঁর উপন্যাসে, শুধু একটু গল্পের প্রয়োজনে নাটকীয়তা অবশ্যি এসেছে। কল্পনার সাথে ইতিহাসের মেলবন্ধনের উদাহরণ এই ঘটনা। Robert Sewell-এর A Forgotten Empire থেকে সেই বিবরণ তুলে দিচ্ছি -
On a day which must have been between November 1442 and April 1443 a desperate attempt was made on the life of King Deva Raya by one of his closest relatives-a brother, according to Abdur Razzak, a nephew, according to Nuniz. Abdur Razaak's story is without doubt the more reliable of the two, since he is a con- temporary witness. Abdur Razzak was ambassador from Persia to Calicut and Vijayanagar, and his account is particularly important as it definitely fixes the date.
“During the time that the author of this narrative was still sojourning at Calicut (November 1442 to April 1443) there happened in the city of Bidjanagar an extraordinary and most singular occurrence. . . .
The king's brother, who had had a new house built for himself, invited thither the monarch and the principal personages of the empire. Now it is an established usage of the infidels never to eat in presence of each other. The men who were invited were assembled together in one grand hall ..At short intervals the prince either came in person or sent some messenger to say that such or such great personage should come and eat his part of the banquet. Care had been taken to bring together all the drums, kettledrums, trumpets, and flutes that could be found in the city, and these instruments playing all at the same time, made a tremendous uproar. As soon as the individual who had been sent for entered the abovementioned house, two assassins, placed in ambush, sprang out upon him, pierced him with a poignard, and cut him in pieces. After having removed his limbs, or rather the fragments of his body, they sent for another guest, who, once having entered this place of carnage, disappeared. . . . In consequence of the noise of the drums, the clamour, and the tumult, no one was aware of what was going on. In this manner all those who had any name or rank in the state were slaughtered. The prince, leaving his house all reeking with the blood of his victims, betook himself to the king's palace, and addressing himself to the guards who were stationed in that royal residence, invited them with flattering words to go to his house, and caused them to follow the steps of the other victims. So that the palace was thus deprived of all its defenders. This villain then entered into the king's presence, holding in his hand a dish covered with betel-nut, under which was concealed a brilliant poignard. He said to the monarch. The hall is ready and they only wait your august presence."
The king, following the maxim which declares that eminent men receive an inspiration from heaven, said to him, I am not in good health to-day.
This unnatural brother, thus losing the hope of enticing the king to his house, drew his poignard, and struck him therewith several violent blows, so that the prince fell at the back of his throne. The traitor, thus believing that the king was dead, left there one of his confidants to cut off the monarch's head then going out of the hall he ascended the portico of the palace, and thus addressed the people: 'I have slain the king, his brothers, and such and such emirs, Brahmins, and viziers; now I am king.'
Meanwhile his emissary had approached the throne with the intention of cutting off the:' king's head, but that prince, seizing the seat behind which he had fallen, struck the wretch with it with so much violence on the chest that he fell upon his back. The king then, with the help of one of his guards, who at the sight of this horrible transaction had hidden himself in a corner, slew this assassin, and went out of the palace by way of the harem.
His brother, still standing on the steps of the hall of council, invited the multitude to recognise him as their king. At that moment the monarch cried out, 'I am alive. I am well and safe. Seize that wretch." The whole crowd assembled together threw themselves upon the guilty prince and put him to death.
The only one who escaped was Danaik, the vizier, who previously to this sad event had gone on a voyage to the frontier of Ceylon. The king sent a courier to him to invite him to return, and informed him of what had just occurred. All those who had in any way aided in the conspiracy were put to death. Men in great numbers were slain, flayed, burnt alive, and their families entirely exterminated. The man who had brought the letters of invitation was put to the last degree of torture. . . ."
বইটির শেষ দিকে পরিশিষ্ট তে আবার পেলাম আর একটি কৌতূহলোদ্দীপক অংশ – “Diamonds”. সঙ্গে সঙ্গে মনে পরল সদ্য পড়া সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর কিশোর উপন্যাস “বিজয়নগরের হীরে” (কাকাবাবু)। এই গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৮ সালের পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা পত্রিকায়। সেখানে মুরগীর ডিমের আকৃতির একটি হীরে কে ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে। এখানেও পেলাম তার উল্লেখ - the diamond "as large as a hen's egg" . কোহিনূর হীরের ইতিহাসও আছে এই অংশটিতে।
পড়তে পড়তে হীরের ইতিহাসে হারিয়ে গেলাম। কত শত অভিশাপ, যুদ্ধ, রক্তপাত এই সব মহামূল্যবান হীরে নিয়ে... এখানে খোঁজ পেলাম আরো দুটি বই এর –
Travels in India - Jean-Baptiste Tavernier, Valentine Ball. Vol. I & II
আর
The Great Diamonds of the world by Edwin W Streeter.
তাহলে কি হলো, ছিল রুমাল হয়ে গেল বেড়াল !। আরো আছে, পরে বলব।
২৮ মার্চ ২০১২ হীরের গল্প পরে করা যাবে, আরো একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। কয়েকদিন আগে এক সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি খবর দেখলাম, মুর্শিদাবাদ জেলার নবগ্রাম থানার অন্তর্গত কিরীটেশ্বরী গ্রাম পঞ্চায়েতের সুকুল গ্রামে ১০০ দিনের কাজে পুকুর খনন করা হচ্ছিল। হটাৎ কোদালের কোপে উঠে আসতে থাকে প্রাচীন যুগের পোড়ামাটির সব প্রত্নসামগ্রী। সংবাদদাতা মুর্শিদাবাদ জেলার প্রত্নতাত্বিক মাহাত্মের কথাপ্রসঙ্গে জানিয়েছেন কাছাকাছি অবস্থিত ঐতিহাসিক স্থানের কথা। জীবনের প্রায় অর্ধেক মুর্শিদাবাদে কেটেছে, তাই কিরীটেশ্বরী মন্দির এর কথা জানা থাকলেও প্রথম জানলাম যে নবগ্রাম থানার অমৃতকুন্ড নামক গ্রামে আছে একটি সূর্্য্য মন্দির যা নাকি কোনারকের পর পরই নির্মিত হয়েছিল! ভেবে দেখলাম, তাই তো, বাংলার পুরাতত্ব বা মন্দির মসজিদ সমন্ধে কিছুই জানিনা প্রায়।
বাংলার মন্দির সমন্ধে বই খোঁজা শুরু করলাম, অনেক অজানা তথ্য উন্মেলিত হতে লাগল। উপলব্ধি করলাম, ভারতের ইতিহাসে কিছু মহানুভব বিদেশী ব্যক্তি সমুহ ও ব্রিটিশ রাজকর্মচারীদের অসাধারন ভূমিকার। সাহেব মানেই সে অত্যাচারী এই ধারণা যে কত ভূল তার প্রমাণ এই সব ইংরেজ যারা উনিশ শতকের প্রথমভাগে এসে ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতি, স্থাপত্য, জীবজগতের কথা লিপিবদ্ধ করেছেন এবং যথাযথ রক্ষণবেক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শাসনকালে যে মহান বিদেশী বিশিষ্ট জনেরা আমাদের ভাষা, সংস্কৃতির বিকাশে যে সুবিশাল কর্মযজ্ঞে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাঁদের অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞচিত্তে মাথা নত হয়ে আসে। এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা উইলিয়াম জোন্স, শ্রীরামপুরে প্রথম ছাপাখানার জনক উইলিয়াম কেরী, অশোকের শিলালিপির পাঠোদ্দার করা জেমস প্রিন্সেপ, প্রাচ্য-ভাষা গবেষক হেনরি ফার্দিনান্দ ব্লোচম্যান যিনি আইন-ই-আকবরী সহ প্রচুর ভারতীয় গ্রন্থের অনুবাদক, বাংলা সাহিত্যের দিকপাল জন মার্শম্যান, ভারতীয় যাদুঘর এবং বোটানিকাল গার্ডেন এর জন্মদাতা ডাচ উদ্ভিদতত্ববিদ নাথালিয়েল ওয়ালিচ, স্বনামখ্যাত হেনরি ভিভিয়ান ডিরোজিও, প্রফেসর এ এল বাসাম, ভিনসেন্ট স্মিথ প্রমুখ ঐতিহাসিক, ভারতীয় পুরাতত্ব সর্বেক্ষণ এর প্রতিষ্ঠাতা স্যর আলেক্সান্ডার কানিংহাম, রাজস্থানের ইতিহাস লেখক কর্নেল টড কতজনের কথা উল্লেখ করব। জানিনা আগামী প্রজন্ম এঁদের কথা মনে রাখবে কিনা।
আমাদের দেশে প্রাচীন গ্রন্থের অভাব নেই। তবে আশ্চর্যজনক ভাবে প্রাচীন ইতিহাসের বই সে রকম একটা নেই বললেই চলে। কলহনের রাজতরঙ্গনী বই এ একমাত্র কাশ্মীরের ধারাবাহিক ইতিহাসের দলিল, এছাড়া প্রাচীন গ্রন্থে ইতিহাস আলোচিত হয়েছে তার আর কোন উদাহরণ মনে পড়ছে না। আমাদের সৌভাগ্য যে উনবিংশ শতকে ইউরোপীয় পন্ডিতগন প্রাচীন মুদ্রা, লিপি, স্থাপত্য, ধ্বংসাবশেষ ইত্যাদি আবিষ্কার করে ভারতের ইতিহাসের কাঠামো উদ্ধারের সূচনা করেন এবং তাঁদের সাহায্য ও প্রদর্শিত পথে আমাদের দেশের ঐতিহাসিকগণ ভারতের ইতিহাসের সেই ইতিহাসের প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেছেন।
বাংলার ইতিহাস বেশ প্রাচীন। বাংলা সাহিত্যে ইতিহাস নিয়ে প্রাচীন লেখা খুব বেশী নেই। এ বিষয়ে প্রথম গ্রন্থ বোধহয় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অধ্যাপক পন্ডিত মৃত্যুঞ্জয় শর্মা বিরচিত রাজাবলি। ১৮১০ সালে প্রথম প্রকাশিত হওয়া এই বই এ “কলির প্রারম্ভ হইতে ইংরাজের অধিকার পর্য্যন্ত ভারতবর্ষে যত রাজা বা সম্রাট হইয়াছেন, তাহাদের ইতিহাস সংক্ষেপে বর্ণিত হইয়াছে” বইটি পড়লে সেকালে বাঙ্গালী দের ইতিহাসচর্চার কি অবস্থা ছিল তা উপলব্ধি করা যায়। তবে অবশ্যই কেবলমাত্র পুরান ও ধর্মপুস্তক থেকে আহোরিত জ্ঞান থেকে ইতিহাস রচনা করার প্রথম প্রয়াস প্রশংসনীয়।
রাজাবলি পুরো বইটি পড়ুন এখানে
পরবর্তী একশ বছরে বাংলায় পুরাতত্ম ও ইতিহাস চর্চা কতটা পরিনত হয় তার প্রমাণ রমাপ্রসাদ চন্দের লেখা গৌড়রাজমালা বই টি তে। গৌড়রাজমালা বিজ্ঞানসম্মত ভাবে লিখিত প্রথম বাংলার ইতিহাস। ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে রচিত এই বইটি ইতিহাসের প্রামাণ্য লিপি, স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক পদ্ধতিতে লিখিত হয়েছিল তা বইটির ভূমিকায় শ্রী অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় মহাশয়ের অসাধারন লেখাটিতে প্রমাণিত হয়।
-
বাংলা সাহিত্যের মহাসাগর যে কত গভীর, যে একবার সেই মহাসাগরে ঝাঁপ দেবে সেই একমাত্র বুঝতে পারবে। “গভীরে যাও আরো গভীরে যাও...” গানটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস চর্চার প্রার্থনা সঙ্গীত হতে পারে। বাংলা সাহিত্যের শুধুমাত্র ইতিহাসের বই এর অনুসন্ধান করতে গিয়ে এত অজানা তথ্য একের পর এক উন্মোচিত হচ্ছে, যে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাচ্ছি। তাই এক প্রসঙ্গের আলোচনা করতে গিয়ে খেই হারিয়ে অন্য প্রসঙ্গে চলে যাচ্ছি অবলীলাক্রমে, লেখার ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে সেই জন্যে। যাই হোক, প্রসঙ্গক্রমে যা যা জানছি, এখানে দিনলিপির মত লিখে চলেছি। সাহিত্যের ইতিহাস রচনা আমার উদ্দেশ্যনয়, প্রধান উদ্দেশ্য বাংলাসাহিত্যের সেই গভীরে ঝাঁপ দেওয়ার ইচ্ছে জাগিয়ে তোলার, হোক সীমিত, তবুও কিছু নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সাহিত্যের সেই অজানা ইতিহাসের খন্ডচিত্র তুলে ধরার যে দায়বদ্ধতা থেকে এই গ্রুপের সৃষ্টি, তার প্রতি অনুগত থাকলেই এই লেখা সার্থক হবে।
বাংলার ইতিহাসের উপর যা যা বই লেখা হয়েছে, তার সম্পর্কে আলোচনার আগে একবার বাংলা সাহিত্যের সমগ্র ইতিহাসের উপর একবার খুব দ্রুত চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক। আমাদের নবম দশম শ্রেণীতে বাংলা যাদের প্রথম ভাষা ছিল, তারা সাধারনত অনিচ্ছা সহকারে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস অধ্যয়ন করেছেন, তাই অধিকাংশ নাম আমাদের চেনা চেনা লাগবে নিশ্চয়ই। আমি একবার খুব সংক্ষেপে সেই ইতিহাসের রেখাচিত্র আমার অপটু হাতে আঁকার চেষ্টা করছি।
খুব সাধারন ভাবে বাংলা ভাষার ইতিহাস কে কালানুক্রমিক ভাবে সাজালে এই রকম একটা কিছু দাঁড়াবে –
বাংলা সাহিত্যের আদি যুগ
চর্যাপদ (চর্য্যাচর্য্য বিনিশ্চয়), বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের অনান্য লেখা (বোধিচর্যাবতার, দোহাকোষ ইত্যাদি)
প্রাক মুসলিম যুগ – ডাক ও খনার বচন, শূন্য পুরান বা ধর্মপূজা (রামাই পন্ডিত), ধর্ম ঠাকুরের গান, সহজিয়া সম্প্রদায়, ব্রতকথা, পাল রাজাদের গান, শৈব-গীতি, গোপিচন্দ্রের গান, গোরক্ষবিজয়
লৌকিক সাহিত্য
মনসামঙ্গল – হরিদত্ত,নারায়নদেব, বিজয়গুপ্ত, দ্বিজ বংশীদাস, ষষ্টীবর ও গঙ্গাদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, জগজ্জীবন ঘোষাল, রামবিনোদ, দ্বিজ রসিক, জগমোহন মিত্র, জীবন মৈত্রেয়, বিপ্রদাস পিপলাই)
চণ্ডীমঙ্গল, কালকেতুর উপাখ্যান, ধনপতি সদাগরের উপাখ্যান (মানিক দত্ত, দ্বিজ জনার্দন, মদন দত্ত, মুক্তারাম সেন, দেবীদাস সেন, শিবনারায়ান দেব, কীর্ত্তিচন্দ্র দাস, বলরাম কবিকঙ্কন, দ্বিজ হরিরাম, মাধবাচার্য্য, কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম,ভবানীশঙ্কর দাস, জয়নারায়ন সেন, শিবচরন সেন, দ্বিজ কমললোচন, ভবানীপ্রসাদ কর, রূপ নারায়ন ঘোষ, ব্রজলাল, যদুনাথ, কৃষ্ণকিশোর রায়)
মঙ্গল কাব্যের শেষ অধ্যায় – কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেন, রায় গুনাকর ভারতচন্দ্র রায়
অপ্রধান মঙ্গলকাব্য – গঙ্গাদেবী, শীতলাদেবী, ষষ্ঠী দেবী, লক্ষ্মীদেবী, সরস্বতী দেবী, সূর্য্য দেবতা, শনি দেবতা, সত্যনারায়ন, সত্যপীর, দক্ষিণ রায় ও সোনা রায় (ব্যাঘ্র দেবতা)
ধর্ম-মঙ্গল (ময়ুর ভট্ট, গোবিন্দরাম বন্দ্যোপাধ্যায়, খেলারাম, মানিক গাঙ্গুলী, সীতারাম দাস, রামদাস আদক, রামচন্দ্র বাড়ুয্য, রূপরাম, ঘনরাম, নরসিংহ বসু, সহদেব চক্রবর্ত্তী)
শিবায়ন (রামকৃষ্ণ দেব, জীবন মৈত্রেয়, রামেশ্বর ভট্টাচার্য, দ্বিজ কালিদাস)
বাংলা সাহিত্যের মধ্য যুগ
অনুবাদ সাহিত্য - পৌরানিক মহাকাব্যের অনুবাদ
রামায়ন (কৃত্তিবাস, শঙ্কর কবিচন্দ্র, অনন্ত, মহিলা কবি চন্দ্রাবতী, দ্বিজ মধুকন্ঠ, রামশঙ্কর দত্ত, ঘনশ্যাম দাস, দ্বিজ দয়ারাম, কৃষ্ণদাস পন্ডিত, ষষ্ঠীবর ও গঙ্গাদাস সেন, দ্বিজ লক্ষ্মণ, দ্বিজ ভবানী, কবি দুর্গারাম, জগতরাম ও রামপ্রসাদ, শিবচন্দ্র সেন, রামানন্দ ঘোষ, রঘুনন্দন গোস্বামী, রামমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, অদ্ভুতাচার্য, রামগোবিন্দ দাস)
মহাভারত (কাশীরাম দাস, সঞ্জয়, কবীন্দ্র পরমেশ্বর, শ্রীকরণ নন্দী, ষষ্ঠীবর ও গঙ্গাদাস সেন, রাজেন্দ্র দাস, গোপীনাথ দত্ত, দ্বিজ অভিরাম, নিত্যানন্দ ঘোষ, কবিচন্দ্র, ঘনশ্যাম দাস, চন্দনদাস মন্ডল, নন্দরাম দাস, অনন্ত মিশ্র, শ্রীনাথ ব্রাক্ষ্মণ, বাসুদেব আচার্য, বিশারদ, সারণ, দ্বিজ কৃষ্ণরাম, রামচন্দ্র খাঁ, লক্ষ্মণ বন্দ্যোপাধ্যায়, রামেশ্বর নন্দী)
বিবিধ পৌরানিক অনুবাদ – নল দময়ন্তী (মধুসূদন নাপিত), কাশীখন্ড (জয়নারায়ন ঘোষাল), মায়াতিমিরচন্দ্রিকা (রামগতি সেন)
বৈষ্ণব অনুবাদ সাহিত্য – ভাগবত (মালাধর বসু, মাধবাচার্য্য, শঙ্কর কবিচন্দ্র, কৃষ্ণদাস [লাউডিয়া], রঘুনাথ পন্ডিত [ভাগবতাচার্য্য], সনাতন চক্রবর্ত্তী, অভিরাম গোস্বামী, কৃষ্ণদাস [কাশীরাম দাসের ভ্রাতা], শ্যামাদাশ, পীতাম্বর সিদ্ধান্তবাগীশ, রামকান্ত দ্বিজ, গৌরাঙ্গ দাস, নরহরি দাস, কবিশেখর দৈবকীনন্দন, হরিদাস, নরসিংহ দাস, রাজারাম দত্ত, অচ্যুতদাস, গদাদর দাস, দ্বিজ পরশুরাম, শঙ্কর দাস, জীবন চক্রবর্ত্তী, ভবানন্দ সেন, উদ্ধবানন্দ, ঈশ্বরচন্দ্র সরকার, রাধাকৃষ্ণ দাস
পদাবলী সাহিত্য – চন্ডীদাস, বিদ্যাপতি, গোবিন্দ দাস, জ্ঞানদাস, বলরাম দাস, গোবিন্দানন্দ চক্রবর্ত্তী, মুরারী গুপ্ত, সনাতন গোস্বামী, বাসুদেব ঘোষ, নরহরি সরকার, রায় শেখর, ঘনশ্যাম, রামানন্দ, রায় রামানন্দ, জগদানন্দ, গদাধর পন্ডিত, যদুনন্দন দাস, যদুনন্দন চক্রবর্ত্তী, পুরুষোত্তম, বংশীবদন, রঘুনাথ দাস, বৃন্দাবন দাস, রায় বসন্ত, লোচন দাস, নরোত্তম দাস, বীর হাম্বীর, দুখিনী, দ্বিজ মাধব, মাধবী দাসী, রঘুনন্দন গোস্বামী, গৌরীদাস পন্ডিত ও তাঁর ভাই কৃষ্ণদাস, পীতাম্বর দাস, পরমেশ্বরী দাস, যদুনাথ আচার্য্য, প্রসাদ দাস, উদ্ধব দাস, রাধাবল্লভ দাস, পরমানন্দ সেন, ধনঞ্জয় দাস, গোকুল দাস, আনন্দ দাস, কানুরাম ইত্যাদি)
মুসলমান পদকর্তাগন – আলাওল বা আলোয়াল, অলিরাজা, চাঁদ কাজী, গরিব খাঁ, ভিখন, সৈয়দ মর্ত্তুজা
বৈষ্ণব চরিতাখ্যান – শ্রীচৈতন্যের যুগ
গোবিন্দদাসের কড়চা, চৈতন্যমঙ্গল (জয়চন্দ্র), চৈতন্য ভাগবত (বৃন্দাবন দাস), চৈতন্য চরিতামৃত (কৃষ্ণদাস কবিরাজ), চৈতন্যমঙ্গল (লোচন দাস), অদ্বৈতপ্রকাশ, গৌরচরিত চিন্তামনি, নিত্যানন্দ বংশমালা, বংশী শিক্ষা
শ্রীচৈতন্যোত্তর যুগ – ভক্তি রত্নাকর, প্রেমবিলাস
বিবিধ সাহিত্য – আলাওলের পদ্মাবত, বৌদ্ধরঞ্জিকা, নীলার বারমাস, বিক্রমাদিত্য কালিদাস প্রসঙ্গ, সখীসেনা, দামোদরের বন্যা, গোসানী মঙ্গল, মদনমোহন বন্দনা, চন্দ্রকান্ত, সঙ্গীত তরঙ্গ, ঊষা হরণ, বৈদ্য গ্রন্থ, বৈষ্ণব দিগদর্শন, সপিন্ডাদি বিচার, উজ্জ্বল চন্দ্রিকা, বৃহৎ সারাবলী, কুলজী সাহিত্য, ঐতিহাসিক সাহিত্য (মহারাষ্ট্র পুরান, সমসের গাজীর গান, রাজমালা)
রাজসভার সাহিত্য – নদীয়া – রাজা কৃষ্ণদন্দ্র এবং ঢাকার রাজা রাজবল্লভ, মহারাজা নন্দকুমার, মহারাজা হরেন্দ্র নারায়ন রায়, কুমার শঙ্কুচন্দ্র রায়, দেওয়ান রঘুনাথ রায়, দেওয়ান রামদুলাল নন্দী, দেওয়ান গঙ্গাগোবিন্দ সিংহ
লোক বা জন সাহিত্য
গান ও কথকতা – শাক্ত ও নানাবিষয়ের গান (আনন্দময়ী, গঙ্গামনি দেবী, কর্তাভজা লাল শশী, গোপাল উড়ে, কাঙ্গাল হরিনাথ, কাবেল কামিনী, পাগলা কানাই, মির্জা হুসেন আলি, রামকৃষ্ণ রায়, শিবচন্দ্র রায়, রামনিধি গুপ্ত, দাশরথী রায়, কমলাকান্ত ভট্টাচার্য, রামপ্রসাদ সেন, আজু গোঁসাই, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
কবিগান ও কবিয়াল (রামবসু, এন্টনী ফিরিঙ্গী, ঠাকুর সাহা, রঘুনাথ দাস, গোঁজলা গুঁই, হরু ঠাকুর, ভোলা ময়রা, নিত্যানন্দ বৈরাগী)
যাত্রাগান (পরমানন্দ অধিকারী, লোচন অধিকারী, গোবিন্দ অধিকারী, কালাচাঁদ পাল, পীতাম্বর অধিকারী ইত্যাদি)
কীর্ত্তন গান (গঙ্গানারায়ন চক্রবর্ত্তী, মঙ্গল ঠাকুর, চন্দ্রশেখর ঠাকুর, শ্যামানন্দ ঠাকুর, বদনচাঁদ ঠাকুর, পুলিনচাঁদ ঠাকুর, নিমাই চক্রবর্ত্তী, বংশীদাস ঠাকুর, হারাধন দাস, দীনদয়াল দাস, বনমালি ঠাকুর ইত্যাদি)
গীতিকা সাহিত্য – মহুয়া, মলুয়া, কঙ্ক ও লীলা, আঁধাবধু, রানী কমলা, চন্দ্রাবতী, ঈশা খাঁ, শ্যামরায়, নুরস্নেহা, মানিকতারা ইত্যাদি।
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ
ইতিহাসের খোঁজে – দিল্লি - প্রথম পর্ব
দিল্লির আনাচে কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস, শত শত বছরের কত সাম্রাজ্যের উত্থান পতনের সাক্ষী এই শহর। আজ শুধু ইংরেজদের রাজধানী স্থাপনের একশ বছর পূর্ণ করার জন্য হইচই হচ্ছে, কিন্তু একশ বছর দিল্লির ইতিহাসের খুবই নগণ্য অধ্যায়। দিল্লির ভৌগলিক অবস্থানের জন্য যুগে যুগে রাজা, সুলতান, সম্রাটদের একমাত্র পছন্দের স্থান ছিল রাজধানী এবং স্ট্রাটেজিক পয়েন্ট হিসাবে। ভারতের মানচিত্রে লক্ষ করলে দেখা যাবে দিল্লির অবস্থান ঠিক সিন্ধু উপত্যকার প্রান্তে, উত্তর পশ্চিম সীমান্তের গিরিপথগুলির সীমানায়, হিমালয় পর্বতমালা আর তার উপত্যকা ও রাজস্থানের মরুভূমির যোগাযোগস্থলে, পূর্বে গঙ্গা-যমুনার দোয়াবের শষ্যশ্যামল উপত্যকা, আর দক্ষিণে মধ্যভারতের ঘন অরণ্যময় বিন্ধ্যাচল ও তৎপরবর্তী তিন সাগরে ঘেরা সমগ্র দক্ষিণ ভারত। এই কারনে যুগে যুগে দিল্লি হয়ে উঠেছিল ভারতের সম্পদের লোভে আসা বিদেশীদের প্রথম পছন্দ, তাই বারবার রাজসিংহাসন পরিণত হয়েছে তখত-এ, তাতে সময়ের কালচক্রে একের পর এক সুলতান, সম্রাট বসেছেন সেই রাজধানীতে, বানিয়েছেন নিজেদের পছন্দমত রাজমহল, দুর্গ, কেল্লা আর শেষ পর্যন্ত্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের দ্বারা পরিনত এক সুন্দর, পরিকল্পিত নগরে।
পুরোনো কেল্লায় পাওয়া প্রত্নতাত্বিক প্রমাণ দিল্লির বয়স প্রায় পরিনত হরপ্পা সভ্যতার সাথে মিলিয়ে দিয়েছে। এরপর দিল্লির উল্লেখ পাওয়া যায় মহাভারতে। পান্ডবদের রাজধানী ইন্দ্রপ্রস্থ, সেও তো দিল্লি। পৃথ্বীরাজ চৌহানের রাজধানী দিল্লি, তার পর দাস, তুঘলক, খিলজি, লোধি, মুঘল সাম্রাজ্যের একের পর এক স্থাপন করা স্থাপত্যের নিদর্শন আজো সেই ইতিহাস বহন করে চলেছে।
ঐতিহাসিক স্থানে ভ্রমণ আমার বরাবরের প্রিয়। ইতিহাসে পড়া চরিত্রগুলি কেমন করে যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে এই সব স্থানে গেলে। দিল্লি আসার পর তাই সময় পেলেই বারবার ছুটে যাই কুতুবমিনার, লালকেল্লা, হুমায়ুন সৌধ, লোধি গার্ডেন এ। শুধু বেরিয়ে দেখে এসে সাধ মেটে না, সেই ইতিহাসের কাহিনী আরো পড়তে ইচ্ছে করে, সেই সব কেল্লার ভেঙ্গে যাওয়া ইঁটের পাথরের টুকরোর মধ্যে লেগে থাকা শত শত বছরের অজানা দীর্ঘশ্বাসের কথা জানতে ইচ্ছে করে। ভারতীয় পুরাতত্ম বিভাগের অসাধারন গবেষণায় প্রায় প্রত্যেকটি পুরোনো স্থাপত্যের সঙ্গের পরিচিতিজ্ঞাপক বোর্ডে ইতিহাস জানা যায় খুব সহজে, তবে সেই যুগের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হল সেই যুগের পর্যটকদের লেখা ভ্রমণকাহিনী যা ব্রিটিশ ঔপনেবেশিক সরকার ও তার বেশকিছু অসামান্য কর্মচারীদের বদান্যতায় ইংরেজি ভাষায় অনুবাদে সহজবোধ্য।
ফিরোজ শাহ তুঘলক ছিলেন তুঘলক বংশের অন্যতম শাসক। ১৩০৯ সালে তিনি রাজপুত মায়ের গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। তার মা ছিলেন দিপালপুরের রাজকন্যা। ১৩৫০-৫৪ সালে তার নির্দেশে ফিরোজাবাদ শহরটি প্রতিষ্ঠিত হয় যার ধ্বংসস্তুপ এই ফিরোজ শাহ কোটলা। খুড়তুতো ভাই মুহাম্মদ বিন তুঘলকের মৃত্যুর পর তিনি সিংহাসনে বসেন। কুশলী শাসক হিসেবে সুনাম থাকলেও ফিরোজ শাহ তুঘলকের শাসনকাল ছিল অস্থিরতায় ভরা। তার আমলে বাংলা-দিল্লির শাসন থেকে মুক্ত হয়। আরো কিছু এলাকার স্বাধীনতা মেনে নিতে বাধ্য হন তিনি। ফিরোজ শাহ তুঘলক ছিলেন তার সময়ের অন্যতম বিলাসী ও উদার শাসক। বলা হয় ১ লাখ ৮০ হাজার দাসদাসীর অধিকারী ছিলেন তিনি। ধর্মীয় ক্ষেত্রে ফিরোজ শাহ ছিলেন উদারনীতির পক্ষপাতি। তিনি হিন্দুদের জিজিয়াকর থেকে অব্যাহতি দেন। উলামা সম্প্রদায়ের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখতেন এই সুলতান। হাত কাটার মতো নিষ্ঠুর শাস্তি রহিত হয় তার আমলে। বিদ্যা শিক্ষা উৎসাহিত করতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। ফিরোজ শাহ হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠারও উদ্যোগ নেন। কবরস্থান, শ্মশান, সরাইখানা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠায় উদারভাবে দান করতেন এই তুঘলক সুলতান।
ফিরোজ শাহ প্রথম মুসলমান শাসক যিনি ওড়িশা আক্রমণ করেন। বাংলা জয় না করতে পেরে ১৩৬০ সালে যখন তিনি দিল্লি ফিরে যাচ্ছেন, বিহারের জৌনপুরের কাছে একদম অপ্রত্যাশিতভাবে তিনি ওড়িশা আক্রমণের চিন্তা করেন। মুসলিম লিপিকাররা জাজ-নগর বা ওড়িশার যে সম্পদের বিবরণ দিয়েছিলেন অতীতে, হয়ত সেটা ফিরোজ কে আকৃষ্ট করে থাকবে। অথবা বাংলা জয়ের আশা অপূর্ণ থাকার হতাশা থেকেও এই অভিযান হতে পারে। যাই হোক ডিসেম্বর ১৩৬০ বিহার থেকে তার সেই বিশাল বাহিনী মানভূম, সিংভূম জেলা হয়ে ওড়িশার দিকে ধাবিত হল। মানভূম জেলার ছোট ছোট ভূপতিরা এই আক্রমণ-এর মোকাবিলা করতে না পারলেও মানভূমের শিখর নামে একটি ছোট দুর্গ অধিকার করতে ফিরোজ বেশ বেগ পেয়েছিলেন। এরপর তিনি আরো দক্ষিণে ওড়িশার সীমান্তে তিনানগর নামে শহরে আক্রমণ করে ওড়িশায় প্রবেশ করলেন। পুরোন ময়ুরভঞ্জ রাজ্যের রাজধানী কিনিয়ানগর বলে একটি সমৃদ্ধ নগরীর লুন্ঠনের কথা জানা যায় সমসাময়িক লিপিমালায়, এই কিনিয়ানগর বোধহয় এখন খিচিং বা কিচিং। (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর কাকাবাবুর একটি গল্পে কিচিং এর নাম আছে)। এরপর কেওনঝড় জয় করে তিনি কটকের দিকে অগ্রসর হলেন। রাজা ভানুদেব তৃতীয়, ভয়পেয়ে সারানগড়ের কেল্লা থেকে পালিয়ে গেলেন, সৈন্যরা প্রাণপণ লড়াই করেও শেষরক্ষা হল না, জয়ী ফিরোজ এগিয়েগেলেন পুরী-র দিকে। জগন্নাথ মন্দির আক্রমন করে তিনি দেবতাকে অপবিত্র করেন। চিল্কা হ্রদের তীরবর্তী গ্রামের মানুষের রক্তে হ্রদের জল লাল হয়ে যায়। ফিরোজ শাহ তুঘলকের এই ওড়িশা আক্রমণ ও পুরীর মন্দির অপবিত্র করা সারা ভারতে ঘৃণার জন্মদেয়। সমসাময়িক ঐতিহাসিক রা ফিরোজ এর সাফাই গাইবার অনেক চেষ্টা করলেও এই আক্রমণ ফিরোজের সফল সাম্রাজের এক কলঙ্কময় অধ্যায়।
সামস – ই – সিরাজ এর লেখা তারিখ-ই-ফিরোজশাহি থেকে এই ফিরোজাবাদের সুন্দর বর্ননা পাওয়া যায়। মূলতঃ তুঘলকাবাদের কেল্লার জলের অভাবের কথা মাথায় রেখে যমুনার তীরবর্তী অঞ্চলে এই নতুন শহর। পুরোনো শহরের কেল্লা প্রাসাদের ভগ্নস্তুপ থেকে ইঁট, পাথর প্রাণীবাহী শকটে করে আনা হয়েছিল। রাই পিথোরা কেল্লা (পৃথ্বিরাজ চৌহানের কেল্লা) থেকে পাঁচ ক্রোশ দূরে অবস্থিত এই নতুন শহরে ফিরোজ শাহ নির্মাণ করলেন এক নতুন দুর্গ, কুশাক। স্যর আলেক্সান্ডার কানিংহাম এর মতে, “ফিরোজাবাদের প্রাসাদ ছিল নগর রক্ষা করার জন্য নির্মিত দুর্গের ভেতরে। বিশালাকায় পাথরের দেওয়াল ও তার মাঝে মাঝে মিশরীয় পিরামিডের ন্যায় ঢালবিশিষ্ট সুউচ্চ স্তম্ভ, কেল্লাকে সুরক্ষিত রাখত” এরকম একটিমাত্র দুর্গ প্রাকার আজ অবশিষ্ট আছে মহাকালের রথের চাকার থেকে বেঁচে, যা আজকের ফিরোজ শাহ কোটলার প্রবেশপথ।
টমাস ড্যানিয়েলের আঁকা এই ছবিতে ফিরোজাবাদ কেল্লার পশ্চিমদিকের দরজা দেখা যাচ্ছে। যদিও আজকের ফিরোজ শাহ কোটলায় এর কোন অস্তিত্ব নেই।
সামস ই সিরাজের বর্ননায় আছে – “অন্তত তিনটি সুড়ঙ্গ ছিল এই দুর্গ নগরে, রাজ-মহিলাদের যাতায়াতের জন্য। এই সুড়ঙ্গ গুলো এত বড় বড় ছিল যে, যাত্রীবাহী শকট ও তাদের মধ্যেদিয়ে অনায়াসে যাতায়াত করতে পারত। একটি সুড়ঙ্গ ছিল পাঁচ জরিব লম্বা, নদীর সাথে সংযোগ ছিল তার, একটি ছিল শিকার প্রাসাদ কুশাক-ই-শিখর এর সাথে, প্রায় দুই ক্রোশ লম্বা, আর সবচেয়ে দীর্ঘটি ছিল পাঁচ ক্রোশ – কিল্লা রাই পিথোরা পর্যন্ত্য” হিন্দুরাও এর প্রাসাদের কাছে ও তার কিছুদূর উত্তরে দুটি অগভীর ফাঁকা স্থান হয়তো এই সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ ছিল। আশে পাশের কিছু পুরোনো অগভীর স্থানের ধংসস্তুপ সুড়ঙ্গে হাওয়া চলাচলের জন্য শ্যাফট হতে পারে বলে মনে করেছিলেন কানিংহাম।
ফিরোজাবাদের প্রাসাদে প্রধান আকর্ষনীয় দ্রষ্টব্য হল – সম্রাট অশোকের একটি স্তম্ভ যা ফিরোজ শাহ নিয়ে এসে কুশাক এ বসিয়ে তাঁর নতুন শহরের শোভা বাড়িয়েছিলেন, একটি জলের উৎস বা বাওলি এবং জামি মসজিদ।
পিরামিডাল গঠনের কাঠামোর উপর অশোকের স্তম্ভ।
ফিরোজাবাদের কেল্লার সবচেয়ে আকর্ষণীয় এই স্তম্ভ একটি বহিঃমঞ্চের উপর পিরামিডাল গঠনের উপর প্রতিষ্ঠিত। নিচের তল এবং উপরের তলের বারান্দায় খিলানাকৃতি প্রকোষ্ঠগুলি দেখার মতো। সিরাজের বর্ণনায় চারদিকে চারটি গোলাকার গম্বুজের একটিও আজ সম্পূর্ণ অবস্থায় নেই। এই পিরামিডাল কাঠামো অশোকের স্তম্ভটিকে এখোনো দৃঢ় ভাবে ধরে আছে। মহম্মদ আনিম রাজি তার হাফত-ই-কালিম গ্রন্থ, যা আকবরের সময়ে রচিত, তাতে তিনতলা স্থাপত্যের উপরে এই স্তম্ভের বর্ননা দিয়েছেন।
বিন্দুসারের পুত্র এবং চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র মগধের সম্রাট অশোক (খ্রীষ্টপূর্ব ৩২৫-২০০) কলিঙ্গযুদ্ধের পরে চন্ডাশোক থেকে ধর্মাশোকে পরিণত হলেন। বৌদ্ধধর্মের অনুরাগী হয়ে সম্রাট অশোক বুদ্ধের শিক্ষায় হয়ে উঠলেন এক জনদরদি, প্রজাবৎসল রাজা। তাঁর সহনশীলতার নীতিকথা প্রচার করতেন বিভিন্ন শিলালিপিতে। কাবুল-কান্দাহার থেকে কলিঙ্গ মানে আজকের ওড়িশা পর্যন্ত্য অশোকের শিলালিপি পাওয়াগেছে। প্রায় প্রতিটি লিপিতেই পালি ভাষায় প্রিয়দর্শী অশোকের জনমুখী আইন-কানুন, নিয়ম নীতির কথা খোদিত করা হয়েছে।
বালি-পাথরের ৪২ ফুট ৭ ইঞ্চি দীর্ঘ একশিলা স্তম্ভটির উপরের ৩৫ ফুট মসৃনভাবে পালিশ করা। স্তম্ভটির ওজন আনুমানিক ২৭ টন। নিস্প্রভ গোলাপি রঙের এই স্তম্ভের উপরের ব্যাস ২৫.৩ ইঞ্চি এবং নিচের অংশের ব্যাস ৩৮.৮ ইঞ্চি। এই পরিমাপ অবশ্য বিভিন্ন সময়ের পর্যটক ও ব্রিটিশ রাজকর্মচারীদের বিবরণে ভিন্ন ভিন্ন। সামস ই সিরাজ বলেছেন ২৪ গজ বা ৩৪ ফুট, ১৮৩৭ সালে মেজর বাট ৩৫ ফুট, ফ্রাঙ্কলিন ৫০ ফুট, ভন অরলিচ ৪২ ফুট ইত্যাদি। অবশেষে স্যর আলেক্সান্ডার কানিংহামের আর্কিওলজিকাল সার্ভে সঠিক উচ্চতা নিরূপণ করে। স্তম্ভের উপাদান সম্বন্ধেও অনেক মতভেদ ছিল। স্তম্ভে খোদিত গ্রীক অক্ষরের উপস্থিতির জন্য দিনেমার উপদেষ্টা ডি লেট (de Laët) এই স্তম্ভকে আলেক্সান্ডার দি গ্রেট এর স্মৃতিস্তম্ভ বলেছেন, টম করিয়াট একে পিতল নির্মিত আলেক্সান্ডারের স্তম্ভ বলেছেন, চ্যাপলিন এডোয়ার্ড সেই মত সমর্থন করে একে মার্বেল এর তৈরি বলেছেন এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিশপ হেবার এটিকে মেহরৌলির লৌহস্তম্ভের মত এটিও ঢালাই ধাতুনির্মিত বলে মনেকরেছেন। তৈমুর দিল্লি আক্রমণ করার পর ফিরোজাবাদে এই মিনার বা স্তম্ভটি এবং দেখে বলেছিলেন “declared that all the countries he had traversed he had never seen any monument comparable to those”
এই স্তম্ভটি কিভাবে ফিরোজাবাদে নিয়ে আসা হয়েছিল তার কাহিনীও খুব উল্লেখযোগ্য। সামস-ই-সিরাজের বর্ননায় এত সুন্দরভাবে সেই ইতিহাস অসামান্য ভাবে ধরা আছে। ১৩৫৬ সালে ফিরোজ শাহ যখন এই স্তম্ভ নিয়ে আসেন ফিরোজাবাদে তখন সামস-ই-সিরাজের বয়েস ছিল ১২ বছর। সেই গল্প সিরাজের নিজের জবানিতে শোনা যাক –
“থট্টা অভিযান থেকে ফেরার পর সুলতান ফিরোজ প্রায়ই দিল্লির আশেপাশে প্রমোদ-ভ্রমণ করতেন। এইরকম দুটি জায়গায় দুটি পাথরের থাম বা স্তম্ভের সমন্ধে জানতে পারেন তিনি। একটি ছিল খিজিরাবাদ সালাউরা জেলার তবরা গ্রামে পাহাড়ের উপরে, আর একটি মীরাট শহরের সন্নিকটে। সেই পান্ডবদের সময় থেকে এই দুটি স্তম্ভ বছরের পর বছর দিল্লির কোন রাজা বা শাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ না করেই নিজ নিজ জায়গায় বিদ্যমান ছিল। ফিরোজ শাহর কৌতুহলী দৃষ্টি, প্রচুর সাধ্য সাধনায় এদের দিল্লিতে এনে ফিরোজাবাদের শোভাবর্ধনের কাজে লাগাল। অসাধারন দক্ষতা, শক্তিপ্রয়োগ ও উদ্যমের প্রচেস্টায় একটি বসানো হল ফিরোজাবাদের কেল্লার প্রাসাদে, জামি মসজিদের পাশে (আলোচিত স্তম্ভ), যার নাম দেওয়া হল মিনার-ই-জরীন (সোনার স্তম্ভ) এবং আর একটি শিকার প্রাসাদ কুশাক-ই-শিখর এ। লেখক পুরোনো ঐতিহাসিকদের বিবরণ পড়ে জেনেছেন, যে এই দুইটি স্তম্ভ নাকি আসলে পান্ডব দের মধ্যমভ্রাতা বিশালবপু ভীম এর হাঁটার জন্য ব্যবহৃত লাঠি ! সেই সময়ের কথা থেকে জানা যায় যে ভীম নাকি একাই হাজার জনের খাবার খেতেন আর তাঁর সাথে কেউ পেরে উঠত না। ভীম পঞ্চপান্ডবের ভাই হয়েও একাই অন্য ভাইদের চেয়ে শক্তিশালী ছিলেন। পঞ্চপান্ডবদের বাসস্থান এই জায়গার কাছাকাছি ছিল। ভীম নাকি একাই তার বৈমাত্রেয় এবং অসৎ ভাই (কৌরব) দের গবাদি পশু চড়াতেন এবং সে কাজে নাকি এই দুটি লাঠি তার পশুদের তাড়িয়ে একজায়গায় আনতে সাহায্য করত। সে যুগে নাকি পশুরাও মানুষদের মত বিশালাকায় ছিল, তাই এবিষয়ে সন্দেহর অবকাশ নেই। ভীম মারা যাবার পর এই দুটি লাঠি প্রস্তরীভূত হয়ে এই দুটি জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে যায়। ফিরোজ শাহ প্রথমবার এই দুটি স্তম্ভ দেখে সন্তোষ এবং প্রশস্তিবোধ করেন এবং প্রায় জয়লাভ করলে বিজয়ী যেমন বিজয়ের স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে যায়, সেইভাবে এদের ফিরোজাবাদে এনেছিলেন”।
“খিজিরাবাদ দিল্লি থেকে ৯০ ক্রোশ দূরে, পাহাড়ের সামীপ্যে অবস্থিত। ফিরোজ শাহ এই তবরা গ্রামে স্তম্ভটি প্রথমবার দেখেই এটিকে দিল্লি এনে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে স্মৃতিচিহ্ন হিসাবে স্থাপন করার জন্য মনস্থির করেছিলেন। অনেকচিন্তা ভাবনা করে স্তম্ভটিকে তুলে আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরজন্য আশেপাশের সমস্ত গ্রাম খালি করানো হয়ছিল এবং সেই স্থানে শুধু পদাতিক এবং অশ্বারোহী সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছিল এবং তাদের প্রতি আদেশ জারি করা হয়েছিল সমস্ত প্রয়োজনীয় মানানসই সামগ্রী আনয়ন করার। শিমুল তুলোর রাশি রাশি মোড়কে স্তম্ভটি মুড়ে ফেলা হয়েছিল এবং মাটিতে তুলোর পুরু বিছানার ব্যবস্থা করা হয়েছিল যাতে স্তম্ভটির ভিত্তি থেকে যখন মাটি সরানো হল সেই সময় সেটি তুলোর বিছানায় মৃদুভাবে এসে পড়েছিল। স্তম্ভটির ভিত্তি পরীক্ষা করে দেখা গেছিল, এটি একটি চতুস্কোণ পাথরের উপস্তম্ভের উপরে বসানো ছিল। এটিকেও আনা হয় দিল্লিতে। এরপর যাতে স্তম্ভটি কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্থ না হয় তার জন্য কাঁচা চামড়া দিয়ে আবৃত করে উপরে নলখাগড়ার নরম অংশ দিয়ে আচ্ছাদিত করা হয়েছিল। এই কাজের জন্য ৪২ চাকা যুক্ত একটি বিশেষ শকট যার প্রতিটি চাকা মোটা রজ্জুর প্রান্তের সাথে যুক্ত করে এক একটি দড়ি ২০০ জন মানুষের সবলে টানার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। হাজার হাজার মানুষের মিলিত প্রচেষ্টায় এটিকে যমুনার তীরে নিয়ে আসা হল। এখানে সুলতান নিজে এসে ব্যবস্থার তদারকি করলেন। বেশ কিছু বিশালাকার নৌকা জড়োকরা হল, এবং খুবই সুপ্রযুক্ত এবং সু-উদ্ভাবনকুশল অসীম শ্রম ও দক্ষতা সহকারে স্তম্ভটি যমুনার অপর পারে ফিরোজাবাদে নিয়ে আসা হল”
আরো গল্প আছে... লিখতে অনেক সময় লাগছে... তাই...
তথ্য ঋণ – ১)
২) ক্রমশ......Saturday, November 27, 2010
Sunday, November 21, 2010
Thursday, November 18, 2010
Corruption
Sunday, November 07, 2010
Remembering on birthday


Today is the Birthday of Bipin Chandra Pal, Sir C V Raman and Actor Kamal Haasan.
Bipin Chandra Pal was one of the mightiest prophets of nationalism who fought bravely for a noble cause of India’s independence. He was a great patriot, orator, journalist and warrior.
Sir Chandrasekhara Venkata Raman, FRS (7 November 1888 – 21 November 1970) was an Indian physicist and Nobel laureate in physics recognised for his work on the molecular scattering of light and for the discovery of the Raman effect, which is named after him.
And for Kamal Hassan, what will I say ! Who will forget his acting in "Pushpak", "Ek duje ke liye","He ram", Appu Raja and many more. will upload a interview with him.
Saturday, November 06, 2010
Happy Diwali !
The biggest gift I got this diwali that today my daughter Shinjini admitted that she missed me this diwali. She also remembered how fun we made last time when we fired the sparklars and other crackers at Delhi. She told me to come soon to take her home. I was completly taken aback at her first time realisation of her 3.5 year old life, that she misses me. Thanks to god and my wife for giving me the most beautiful daughter. Only thing that pains is my parents didn't see how their son became a proud father. I know they are very happy today wherever they are, seeing me as a father how I realised the simple truth how parents sacrifices their own happiness to see the smiling faces of their children. Now I can understand what pains they had taken to made me comfortable amidst unfavourable conditions.
Tuesday, November 02, 2010
Monday, November 01, 2010
Sunday, October 31, 2010
Remembering Sachin Dev Burman on his Death Anniversary - Biography -1
Today is the Death Anniversary of Sachin Dev Burman.Known as "Sachin Karta" to the music connoisseurs of Kolkata, "Burman Dada" as fondly called by the musicians of Bombay, "Shochin Deb Bormon" by the radio listeners of Bangladesh and West Bengal, India, "S.D. Burman" by the film cine goers or simply "SD" by his "jeans" filmi fans -- he created songs that bore the stamp of his inimitable genius, abounding in variety yet retaining the distinction of his style. Drawing from the vast store of folk music-forms and from the classical teachings, as the mood called for, he produced what is known as the Sachin Dev Burman music which is at once rotund, vibrant and unorthodox both in form and substance.
Remembering Sardar Vallabhbhai Patel on his birthday
Today is the birth day of Sardar Vallabhbhai Patel - Iron man of India. Let us have a look at a rarest video of Sardar.
Remembering Indira Gandhi, on her 26th Death Anniversary.
She was the toughest political leader I ever seen. Just have a glimpses of one of her interviews with international TV channel in 1971
Saturday, October 30, 2010
Remembering Dr. Homi Jehangir Bhabha - Scientist in Action [rare documentary] 01 of 03
Today is the birthday of Dr. Homi Jehangir Bhabha, the pioneer of Indian Atomic Research. Let us see one of the rare documentary depicting his true vision and mission.